সানায় জ্বালানি স্থাপনা থেকে বেসামরিকদের সরে যাওয়ার নির্দেশ জোটের

Yemen's capital Sanaa skyline amid coalition evacuation warning for a fuel station
ইয়েমেনের রাজধানী সানা



রিয়াদ: ইয়েমেনের রাজধানী সানায় একটি জ্বালানি স্থাপনায় সম্ভাব্য লক্ষ্যভিত্তিক সামরিক অভিযানের আগে বেসামরিক নাগরিকদের সরে যাওয়ার সতর্কবার্তা দিয়েছে ইয়েমেনে বৈধ সরকার পুনঃপ্রতিষ্ঠায় নিয়োজিত জোট।


মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) জোটের যৌথ বাহিনীর কমান্ড সানার আল-সাবাহাহ এলাকায় ইয়েমেন পেট্রোলিয়াম কোম্পানির কেন্দ্রীয় জ্বালানি স্টেশন থেকে বেসামরিক নাগরিকদের সরে যেতে আহ্বান জানায়। প্রকাশিত স্থানের মানচিত্র অনুসরণ করে নিরাপত্তার স্বার্থে এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।


রিয়াদের উত্তরে তিনটি ড্রোন ধ্বংস


এর আগে জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, রিয়াদের উত্তরে তিনটি ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে।


তবে ড্রোনগুলো কোথা থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল বা সেগুলোর লক্ষ্য কী ছিল, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে বিস্তারিত জানানো হয়নি।


ইয়েমেনে ২ হাজার ২০০টি নির্ভুল হামলার দাবি


এদিকে ইয়েমেনি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল মাজেদ আল-নুজাইলি দাবি করেছেন, স্থল অভিযানে তাদের বাহিনী উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিমান, ড্রোন, ফিল্ড আর্টিলারি, একাধিক রকেট নিক্ষেপব্যবস্থা এবং স্নাইপার ইউনিটের সহায়তায় প্রায় ২ হাজার ২০০টি নির্ভুল হামলা চালানো হয়েছে।


তিনি জানান, এসব হামলার প্রধান লক্ষ্য ছিল হুথি বাহিনীর প্রতিরক্ষাব্যবস্থা দুর্বল করা। এ উদ্দেশ্যে তাদের কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র, সুরক্ষিত অবস্থান, গোলাবর্ষণের উৎস, নজরদারি ও গোয়েন্দা তৎপরতার স্থান, সেনাসমাবেশ এবং রিজার্ভ বাহিনীর অবস্থান লক্ষ্যবস্তু করা হয়।


এ ছাড়া অস্ত্র ও গোলাবারুদের গুদাম, পরিবহন ও সরবরাহপথ এবং হুথি নিয়ন্ত্রিত এলাকার গভীরে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনাতেও হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।


তাইজে হুথি বাহিনীর ক্ষয়ক্ষতির দাবি


কর্নেল আল-নুজাইলির দাবি, তাইজ এলাকায় ধারাবাহিক হামলায় হুথি বাহিনীর সামরিক বহর ও অতিরিক্ত সেনাসদস্যদের অগ্রযাত্রা ব্যাহত হয়েছে। এতে তাদের বাহিনী ছত্রভঙ্গ হয়েছে এবং বিভিন্ন অবস্থানে গোলাবর্ষণের সহায়তা দেওয়া ও পুনরায় সংগঠিত হওয়ার সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।


তিনি আরও জানান, প্রাথমিক মাঠপর্যায়ের হিসাব অনুযায়ী, বিভিন্ন যুদ্ধক্ষেত্রে প্রায় ১ হাজার ২০০ জন নিহত হয়েছেন। একই সঙ্গে ৪৪০টিরও বেশি সামরিক যান ও সরঞ্জাম ধ্বংস অথবা ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।


তবে এসব হতাহতের সংখ্যা ও সামরিক ক্ষয়ক্ষতির তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।


মাইন অপসারণ ও বেসামরিকদের নিরাপত্তা


ইয়েমেনি সেনাবাহিনীর মুখপাত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, পশ্চিমাঞ্চলীয় রণাঙ্গনে পুনর্দখল করা এলাকাগুলোতে সামরিক প্রকৌশল ইউনিট মাইন ও হাতে তৈরি বিস্ফোরক অপসারণের কাজ করছে।


তাঁর দাবি, সড়ক ও চলাচলের পথ নিরাপদ করার পাশাপাশি বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং তাঁদের নিজ নিজ এলাকায় ফিরে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করাই এসব কার্যক্রমের উদ্দেশ্য।


আল-নুজাইলি আরও দাবি করেন, সামরিক হামলাগুলো আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের নিয়ম মেনে পরিচালিত হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সামরিক ও বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে পার্থক্য নির্ধারণ, আনুপাতিকতার নীতি অনুসরণ এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের কথা উল্লেখ করেন তিনি।


সূত্র: আরব নিউজ (Arab News), ১৩ অক্টোবর ২০২৬।